অধ্যক্ষর বাণী


প্রফেসর মধুমিতা চক্রবর্ত্তী
অধ্যক্ষ
সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ

অধ্যক্ষর বাণী
মহাকালের করাল গ্রাসে একদিন সবকিছুই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়; তথাপি আমরা মানুষেরা প্রাসাদ তৈরি করি, প্রাগ্রসর সমাজ বিনির্মাণের জন্য ঘাম ঝরাই৷ ঘাম ঝরাই; কারণ তা আমাদের অসত্মিত্ব রৰার জন্যই করতে হয়; যদিও জানি একদিন সবকিছুই কালের স্রোতে বিলীন হয়ে যাবে৷ তবু মানুষের সভ্যতায় থেমে থাকার কোন সুযোগ নেই৷ নেই কোন সুযোগ আত্মসমর্পণের৷

সরকারি তোলারাম কলেজ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং এর পাশর্্ববর্তী অঞ্চলসমূহে শিক্ষা বিসত্মারে এক গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে৷ চলিস্নশ দশকের শেষ দিকে স্বনামখ্যাত ও মহত্‍প্রাণ অধ্যক্ষ খগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অনত্মহীন প্রচেষ্টায় এবং সুদূর রাজস্থান থেকে আগত শ্রীযুক্ত তোলারাম বসরাজের বদান্যতায় এ কলেজটির প্রাণ প্রতিষ্ঠা পায়৷ তারপর বিভিন্ন চড়াই উত্‍রাই পার হয়ে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে এই কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়৷ শিক্ষার যে মশাল একদিন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং সর্বজনপ্রিয় ব্যক্তি অধ্যক্ষ খগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এ প্রতিষ্ঠানে প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন তা হাজারো শিক্ষক ও অগনিত শুভার্থীদের অবিরাম পরিশ্রমে এখন পত্র-পলস্নবে এবং পুষ্পে সুশোভিত হয়ে মহীরম্নহের রূপ ধারণ করেছে৷

বর্তমানে এ কলেজের কলেবর অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ এখানে এখন ১৪টি বিভাগে অনার্স ও ১২টি বিভাগে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে৷ আর ৫টি বিভাগে চালু রয়েছে প্রিলিমিনারী কোর্স৷ তাছাড়া, রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস) কোর্স৷ হাতে গোনা ক’জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যে কলেজের যাত্রা শুরম্ন হয়েছিল তা বেড়ে বর্তমানে প্রায় বিশ হাজারে পেঁৗছেছে৷ শিক্ষকের পদের সংখ্যা বেড়ে ৯৭-এ উন্নীত হয়েছে৷ অবকাঠামোগত দিক দিয়েও এ প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে৷

বর্তমান সরকারের অর্থানুকূল্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লৰে এ কলেজে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি কম্পিউটার ল্যাব৷ সেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ৷ সে সাথে অন্যান্য কার্যক্রমও যথারীতি চালু রয়েছে৷

তাছাড়া ‘ভিশন-২০২১’ বাসত্মবায়নের লক্ষে সর্বক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অনস্বীকার্য৷ তার একটি মাধ্যম হল অনলাইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও একাডেমিক তথ্য-উপাত্ত প্রদান করা৷ সে লক্ষে পেঁৗছবার জন্য বর্তমান সরকার ইন্টারেকটিভ ওয়েবসাইট তৈরির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রম্নত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে৷ সে উদ্দেশ্যে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি৷ এবং এ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে শিক্ষকবৃন্দ প্রতিটি বিষয়ে পাঠ পরিকল্পনা, অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইন্টারেকটিভ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন৷ এছাড়া, প্রতিষ্ঠানের দৈনিক কার্যক্রম, ভর্তি সংক্রানত্ম তথ্য, সাধারণ নোটিশ, ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী ইন্টারেকটিভ ওয়েবসাইটে অনত্মভর্ুক্ত থাকবে৷

যুগের চাহিদা অনুসারে এ প্রতিষ্ঠানকে আরো সমৃদ্ধ এবং যুগোপযোগী করার জন্য এ কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷

তাদের সে প্রচেষ্টা ফলবতী হোক; প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত শীতলৰ্যার পলি বিধৌত নারায়ণগঞ্জ এবং এর পাশর্্ববর্তী অঞ্চলের অগণিত মানুষের শুভেচ্ছাসিঞ্চনে— এ প্রার্থনা আমাদের৷